মনোইতিহাসবিদদের কথা

ফাউণ্ডেশন – সায়েন্স ফিকশন – আইজাক আসিমভ
অনুবাদ – জি. এইচ. হাবীব

শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান কল্প-কাহিনীকার। জাতিতে ইহুদী; জন্ম, ১৯২০ সালে, মস্কো থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি ছোট্ট শহর পেট্রেভিচ-এ। কিন্তু মাত্র তিন বছর পরই সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কেটেছে তার শৈশব। ওখানেই এক গ্রামার স্কুলে পড়াশোনায় হাতেখড়ি। স্মৃতিশক্তি ছিল খুব ভাল, তাই হাই স্কুলের গণ্ডী পেরোন ষোল বছরে পা দেবার আগেই। ১৯৩৯ এবং ১৯৪১-এ যথাক্রমে বিএসসি, এবং এমএসসি পাস করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলাডেলফিয়া নেভাল এয়ার এক্সপেরিমেন্টাল স্টেশনে কেমিস্ট হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। ১৯৪৫, ১৯৪৬– এই দুবছর মার্কিন সেনা বিভাগে চাকরি করে কর্পোরাল পদে উন্নীত হওয়ার পর অবসর নেন। ১৯৪৯ সালে পিএইচডি করেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। তারপর ওখানে নিউক্লেয়িক এসিড নিয়ে কিছুদিন গবেষণা করে ঐ বছরই বায়োকেমিস্ট্রির ইন্ট্রাক্টর হিসেবে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে উন্নীত হন সহযোগী অধ্যাপক পদে।

 

লেখালেখির আগ্রহ কৈশোর থেকেই। আর তাই দেখে, ১৯৩৬ সালে তার বাবা একটা টাইপরাইটার কিনে দেন। এই টাইপরাইটারই পরে তাঁর জীবনের প্রধান সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। দিনে গড়পড়তা বারো ঘণ্টা কাটাতেন তিনি এটার সান্নিধ্যে। প্রথম সায়েন্স ফিকশনটি লেখেন ১৯৩৮ সালে। গল্পটি নিয়ে সোজা গিয়ে হাজির হন অ্যাসটাউণ্ডিং সায়েন্স ফিকশন পত্রিকার সম্পাদক জন ডাব্লিউ ক্যাম্পবেলের কাছে। শুধু সেটিই নয়, পরপর বারোটি গল্প তিনি বাতিল করে দেন। অবশ্য গল্প লেখার ব্যাপারে তিনি অনেক প্রয়োজনীয় উপদেশও দেন। সে-বছরই অ্যামেজিং স্টোরিজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তার গল্প মেরুনড় অভ ভেসটা। প্রথম বই বেরোয় ১৯৫০ এ, পেবল ইন দ্য স্কাই। ১৯৫০ সালেই বেরোয় দ্বিতীয় উপন্যাস আই, রোবট। ১৯৫৪ এবং ১৯৫৭ সালে ডিটেকটিভধর্মী দুটো সায়েন্স ফিকশন দ্য কেভস অভ স্টিল এবং দ্য নেকেড সান। উল্লেখযোগ্য কিছু গল্প সংকলনও বেরোয় : দ্য মার্সিয়ান ওয়ে (১৯৫৫), নাইন টুমরোজ, টেলস অভ নিউ ফিউচার (১৯৫৯), ট্রায়াঙ্গল (১৯৬১), ইত্যাদি।

 

পাঠক এবং সমালোচকদের ধারণা, ফাউণ্ডেশন ট্রিলজি-ই তাঁর সেরা রচনা; এই ট্রিলজির তিনটি খণ্ড হচ্ছে ফাউণ্ডেশন (১৯৫১), ফাউণ্ডেশন অ্যান্ড এম্পায়ার (১৯৫২), এবং সেকেণ্ড ফাউণ্ডেশন (১৯৫৩)। ১৯৬৬ সালে ট্রিলজিটি দ্য ওয়ার্ল্ড সায়েন্স ফিকশন কনভেনশন থেকে বেস্ট অল-টাইম সায়েন্স ফিকশন সিরিজ হিসেবে হুগো অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। সব মিলিয়ে তিনবার হুগো অ্যাওয়ার্ড এবং একবার নেবুলা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন আসিমভ। ফাউণ্ডেশন ট্রিলজি রচনার প্রায় তিরিশ বছর পর সিরিজটিকে তিনি সম্প্রসারিত করেন ফাউণ্ডেশনস এজ (১৯৮২) ও ফাউণ্ডেশন অ্যাণ্ড আর্থ (১৯৮৩) নামের দুটো উপন্যাস লিখে। এবং ১৯৮৮ সালে প্রিলিউড টু ফাউণ্ডেশন নামে আরেকটি উপন্যাস লেখেন। সেটা ফাউণ্ডেশন অ্যান্ড আর্থ-এর সিকোয়েল নয়, বরং প্রথম খণ্ড অর্থাৎ ফাউণ্ডেশন-এর আগের কাহিনী। অবশ্য ওটা না পড়লেও ফাউণ্ডেশন পড়তে কোনো অসুবিধা হবে না।

 

রোবোটিকসের চারটি অসাধারণ সূত্রের জন্যেও আসিমভ বিখ্যাত। বিজ্ঞানের খটোমটো বিষয়গুলোকে যথাসম্ভব সহজ সাবলীল ভাষায় সাধারণ পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি সফলভাবে। এ-ধরনের কিছু নির্জলা বিজ্ঞান নির্ভর বই হচ্ছে, দ্য রিল অভ নাম্বার্স (১৯৫৯), দি ইন্টেলিজেন্ট ম্যানস গাইড টু সায়েন্স (১৯৬০), দ্য জেনেটিক কোড (১৯৬৩), ইত্যাদি।

 

ছোটদের জন্য লাকি স্টার নামের এক নড়োচরের কাহিনী লিখেছেন লাকি স্টার অ্যাও ওশেনস অভ ভেনাস, লাকি স্টার অ্যাণ্ড দ্য বিগ সান মারকারি এবং লাকি স্টার অ্যান্ড মুনস অভ জুপিটার- এই উপন্যাসগুলোয়।

 

সব মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় পাঁচশ। ১৯৯২ সালের ৬ই এপ্রিল তিনি মারা যান।

 

.

 

সূচিক্রম

 

প্রথম পর্ব মনোইতিহাসবিদদের কথা

 

দ্বিতীয় পর্ব বিশ্বকোষ রচয়িতাদের কথা

 

তৃতীয় পর্ব। মেয়রদের কথা

 

চতুর্থ পর্ব বণিকদের কথা

 

পঞ্চম পর্ব বণিক রাজপুত্রদের কথা।

 

*

 

প্রথম পর্ব – মনোইতিহাসবিদদের কথা

 

হ্যারি সেলডন-… গ্যালাকটিক এরা-র ১১,৯৮৮ তম বর্ষে জন্মগ্রহণ করেন, মারা যান ১২,০৬৯ সালে। তারিখ দুটো আরো সহজভাবে ফাউণ্ডেশন এরা অনুযায়ী এভাবে লেখা হয় : জন্ম:- ৭৯; মৃত্যু:-১ এফ. ই.। হেলিকন-এর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে আর্কটারাস সেক্টরে জন্ম তাঁর। (কিংবদন্তী আছে, আর্কটারাস সেক্টরে তাঁর বাবা গ্রহের হাইড্রোপনিক প্ল্যান্টে তামাক চাষ করতেন। অবশ্যি এটা কতটুকু সত্যি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।) শৈশবেই তিনি অংকশাস্ত্রে অসাধারণ পারদর্শিতা প্রদর্শন করেন যার প্রচুর উদাহরণ লোকের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু সেগুলোর কিছু কিছু পরস্পর বিরোধীও বটে। বলা হয়ে থাকে, তার বয়স যখন দুবছর…

 

… নিঃসন্দেহে তার সবচেয়ে বড় অবদান মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাস বা সাইকোহিস্ট্রির ক্ষেত্রে। সেলডন যখন বিষয়টিতে হাত দেন তখন এটা ছিল নিতান্তই কিছু অস্পষ্ট, স্বতঃসিদ্ধ ধারণার একটি সমষ্টি মাত্র। কিন্তু সাইকোহিস্ট্রিকে তিনি একটি একটি নিগূঢ়, পরিসংখ্যান-নির্ভর বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রেখে যান।…

 

… গাল ডরনিকের লেখা জীবনীটিকেই এখন পর্যন্ত তাঁর জীবন সম্পর্কে সবচেয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ বলে গণ্য করা হয়। মহান এই গণিতজ্ঞের মৃত্যুর দুবছর আগে তার সঙ্গে দেখা হয় যুবক ডরনিকের। সেই প্রথম সাক্ষাতের কাহিনী…

 

-ইনসাইক্লোপীডিয়া গ্যালাকটিকা।*

 

——–

* এখানে ব্যবহৃত ইনসাইক্লোপীডিয়া গ্যালাকটিকার সমস্ত উদ্ধৃতি প্রকাশকদের অনুমতিক্রমে ইনসাইক্লোপীডিয়া গ্যালাকটিকা পাবলিশিং


Rx Munna

447 Blog posts

Comments