২০১৩ সাল, অক্টোবর মাস। গভীর রাত, জানালার পাশে বসে আছি। জানালার গ্লাস আর পর্দা ভেদ করে চাদের আলো আমার পড়ার টেবিলে এসে পড়ছে। ব্যাপারটা আরো উপভোগ করার জন্য জানালাটা খুলে দিলাম। চাদের আলো আর সাথে হালকা শীতল বাতাস। কবিতা লেখার ভুত চেপে বসল মাথার উপর। তবে চাদের আলোতে ভাল করে দেখতে পাচ্ছিলাম না। আর আলো জালিয়ে পরিবেশ টা নষ্ট করতে ইচ্ছা হলোনা। তাই বসে বসে গুন গুন করে গান গাইতে লাগলাম।
বেশ কিছু সময় পর আচমকা রুম ঝুম নুপুরের শব্দ। আমি চমকে পিছনে তাকালাম। নাহ। কিছুই নাহ। আবার নীরবতা। ভাবলাম বাতাসে অন্য কিছুর শব্দ ভেসে আসছে। ২ মিনিট পর…আবার সেই রুম ঝুম শব্দ। এবার আমি পিছনে না তাকিয়ে চুপচাপ শুনতে লাগলাম। খেয়াল করলাম শব্দটা আমার পিছন দিয়ে এসে আমার টেবিলের ডান পাশে গিয়ে থামল। তবে শব্দটা ছিল একটা নুপুরের। মানে যদি এক পায়ে নুপুর পরে কেউ হাটে তাহলে যেমন শব্দ হবে, শব্দটা ঠিক তেমন। কিন্তু মজার ব্যাপার হল কাউকেই দেখা যাচ্ছে না সেখানে। এবার চুড়ির শব্দ। মনে হল কেউ হাতে চুড়ি পরে হাত টা টেবিলের উপর রাখল। আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম। কিছুই বুঝতে পারলাম না। কি হচ্ছে এগুলো? আমি যেন চেয়ারের উপর জমে যাচ্ছি।
মিনিট কয়েক বাদে আবার রুম ঝুম… … … এবার শব্দটা যে পথে এসেছিল, সে পথেই চলে যেতে যেতে এক সময় মিলিয়ে গেল। আমি চেয়ার থেকে উঠে বেডে গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়লাম।
***আকাশে মেঘ ও নেই আবার সুর্য ও নেই। বেশ ঠান্ডা একটা পরিবেশ। তবে বাতাসের ও উপস্থিতি নেই। কোন একটা মাঝারি আকারের ব্রিজের
আমার নাম রুদ্র বাসা চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায়। আমি হরর বা প্যারানরমাল একটিভিটিস সম্পর্কে কখনও বিশ্বাস করতাম না, যদি এই ঘটনাটি আমার সাথে না ঘটত। ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০০৮। সে আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগের কাহিনী। সেদিন আমার বন্ধু আর আমি দুজনে মিলে ঠিক করলাম, মাছ ধরতে যাবো। তো যেই ভাবা সেই কাজ। টাইমটা ঠিক করা হল ভোর ৪টার সময়। আমার বন্ধু শাহেদ রাতে ডাক দেয়ার সাথে সাথে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমার মাছ ধরার খুব শখ, তো সেই কারনে উত্তেজনায় সারা রাত ঘুমাতে পারিনি, দরজা খুলেই হাঁটা শুরু করলাম। আমি শুনেছিলাম যে গভীর রাতে কেউ ডাকলে তিন বার ডাকার পর সাড়া দিতে হয়। কিন্তু এত কিছু মনে ছিল না তখন। রাস্তায় চলার সময় ও শুধু আমার পেছন পেছন হাঁটছিল, আমি যতই বলি আমার পাশে আস্তে সে মানল না। গ্রামের মাঠের আইল দিয়ে হেঁটে আমরা একটা ছোট পুকুরে পৌঁছলাম। পুকুরে শুধু কাদাই ভর্তি ছিল পানি কিছুই ছিল না। তাই হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে মাছ ধরা শুরু করলাম। আমি প্রচুর মাছ পাচ্ছিলাম আর আমার খলুইয়ে রাখছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ যাওয়ার পর দেখি যে আমার ঝাঁপিতে শুধু দুইটা মাছ আছে। আমি মাছ ধরতে ধরতে দেখি আমার পেছনে থাকা আমার বন্ধু ঝাঁপি থেকে একটা একটা করে মাছ নিচ্ছে আর গিলে ফেলছে। চারিদিকে জোছনা থাকায় আমার কিছুই বুঝতে অসুবিধা হলনা। আমি চুপ করে মাছ ধরতে লাগলাম আর আমার কাছে থাকা বল্লমটা ওর দিকে ছুঁড়লাম, তারপর কিছু না ভেবেই দৌড় দেয়া শুরু করলাম। বাসায় পৌঁছানর পরেই আমি জ্ঞান হারালাম। পরে শাহেদকে জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছিল। সে বলল আমি ডাকতে এসে দেখি তুই চলে গিয়েছিস।
আমার নাম হাসান মাহমুদ। আমার বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার থানার জয়পাড়া গ্রামে। আমি এখন যে ঘটনাটি শেয়ার করছি এটা তেমন ভয়ংকর ঘটনা না হলেও এটা একটা সত্যি ঘটনা। ঘটনাটি পড়ে কার কেমন লাগবে আমি জানিনা, তবে ঘটনাটি পড়ার পর কারো কাছে ভাল না লাগলে দয়া করে কেউ কোন বাজে কমেন্ট করবেন না। ঘটনাটি আমার দাদার। আমার দাদারা ছিলেন ৫ ভাই। ভাইদের মধ্যে আমার দাদা ছিলেন সবচেয়ে বড়। আমার দাদার প্রায় অনেকগুলো মহিষ ছিল, আর সেগুলো দেখাশোনা করত ২ জন লোক। দাদার ৩ নাম্বার ভাইয়ের নাম এয়াকুব আর তিনি ছিলেন বেশ শক্তিশালী। দাদাদের একটা বলি মহিষ ছিল, যা একমাত্র এয়াকুব দাদা ছাড়া আর অন্য কেউই বাঁধতে পারতনা। ঘটনাটি যেদিন ঘটেছিল সেদিন ছিল বুধবার আর তখন রাত প্রায় সাতটা কি সাড়ে সাতটার মতন হবে। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ এয়াকুব দাদা শুনতে পায় তার বড়ভাই (আমার দাদা) বাইরে থেকে এয়াকুব! এয়াকুব! বলে মহিষের ঘরের দিক থেকে ডাকছে আর বলছে, এয়াকুব! তাড়াতাড়ি আয়! মহিষ ছুটে গেছে! বাঁধতে হবে! দাদার ডাক শুনে এয়াকুব দাদা বাইরে গিয়ে দেখে মহিষটা একটা জঙ্গলের দিকে ছুটছে। এটা দেখে এয়াকুব দাদা মহিষের পিছু পিছু ছুটে যায়। কিন্তু কিছুদুর গিয়ে দেখে যে, সেখানে কোন মহিষ নেই। সে বুঝতে পারল হয়তো মহিষটা জঙ্গলের ভেতর ঢুকে পরছে। কিন্তু তখন সেখানে প্রচণ্ড অন্ধকার। তাই সে ভাবল যে বাসায় গিয়ে একটা মশাল নিয়ে এসে ওটাকে খুজবে। কিন্তু সে যখন পেছনে ঘুরবে, হঠাৎ করেই সে তার কাঁধের উপর ঠাণ্ডা কিছু একটা অনুভব করল। সে বুঝতে পারল তার কাধের উপর একটা ঠাণ্ডা হাত। সে পেছনে ঘুরে দেখে তার বড় ভাই অর্থাৎ আমার দাদা। সে দাদাকে বলল, যে মহিষটা জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পরছে। বাসায় থেকে একটা মশাল আনতে হবে। কিন্তু আমার তার বড় ভাই (আমার দাদা) তাকে বলে যে, কোন মশাল আনতে হবে না। তুই আমার সাথে আয়। এই বলে সে এয়াকুব দাদার হাত ধরে টানতে শুরু করে। এয়াকুব দাদা তাকে যতই বোঝানোর চেষ্টা করল তাতে কোন কাজ হল না। সে তাকে হাত ধরে টানছে তো টানছেই। টানতে টানতে একসময় সে এয়াকুব দাদাকে নদীর দিকে টেনে নিয়ে যায়। এয়াকুব দাদা বুঝতে পারে যে এটা আসলে তার ভাই নয় অন্য কিছু। সেও তখন তাকে উল্টো দিকে টানতে শুরু করে। এইভাবে প্রায় অনেক্ষন ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। দাদা বাড়িতে দাদিকে জিজ্ঞেস করে এয়াকুব কোথায়? দাদি বলল, তুমি না তাকে ডেকে নিয়ে গেলে। দাদা ভীষণ অবাক হয়ে গেল। সে দাদিকে বলল, আমিতো এই মাত্র বাজার থেকে ফিরলাম। আমি আবার কখন ওকে ডেকে নিয়ে গেলাম? দাদা সবকিছু বুঝতে পারে আর মশাল সহ ৫/৬ জন লোক নিয়ে জঙ্গলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। একসময়
আমি যখন ছোট তখনকার ঘটনা। একদিন রাতে আমার আব্বুর সাথে আম্মুর কি যেন নিয়ে ঝগড়া হয়। এবং আমার আম্মু কিছুক্ষন পরে কেঁদে কেঁদে বলে যে আমি তোমার বাড়ি থাকবো না। আমি আমার বাপের বাড়ি চলে যাব। এই বলে আমার সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। তখন আনুমানিক রাত ১১.৪৫ এরকম। আমার আব্বু রাগে কিছু না বলে ঘরে এসে ছিটকানি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। একটু পরে আমার যখন ঘুম আসছিল না তখন আমি আমার আব্বুর কাছে যেয়ে শুই। কিছুক্ষন পরে হঠাৎ বাহিরে আম্মুর ডাক। আম্মু আমাকে ডেকে ডেকে দরজা খুলতে বলছে। আব্বু নিজেই যেয়ে গেট খুলে দিয়ে আসে এবং আম্মুকে বলে ফিরে আসলে কেন? যাও বাপের বাড়ি যাও। আম্মু কিছু বলে না, চুপ করে ঘরে চলে আসে। এখানে বলে রাখা ভালো যে তখন বিদ্যুত্ ছিল না। ঘরে টিপ টিপ করে মোম বাতি জ্বলছে। তখন আম্মু ঘরে আসলো। এরপর আমি, আব্বু আর আম্মু একসাথে ঘুমাই। এবং একটু পরে আমি অনুভব করলাম কিসের যেন গন্ধ নাকে আসছে। তারপর আমি আব্বুকে চুপি চুপি বললাম এই কথা। আব্বু বললো চুপ করে থাকো। এরকম কিছুক্ষণ যাওয়ার পরে আব্বুর মোবাইলে কল আসলো এবং আব্বু ফোন ধরে বললো হ্যালো। তখন আমার নানা ফোনে বলল লিমনের আম্মুর সাথে আবার কি হয়েছে? লিমনের আম্মু এখানে বসে কান্না করতেছে। আব্বু থ মেরে গেলো এবং আমাকে চিমটি কাটলো। আমি তখন একটু উহ করে উঠলাম। আব্বু বললো, কিরে বাথরুমে যাবি? এই বলে আমাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আমার আম্মুর রুপে যে ছিল সে ঘর থেকে যাওয়ার সময় আব্বুকে বারবার বলতেছিলো, লিমন একাই বাথরুমে যাক, তুমি থাকো। তখন আব্বু বলে তুমি থাকো, আমি যা্ নয়তো লিমন ভয় পাবে। এই বলে আমাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আব্বু। তারপর পাশের বাড়িতে যেয়ে সেই রাতটি কাটাই। সকালে এসে দেখি ঘর একদম নোংরা হয়ে আছে। আর দেয়ালে শুধু আঁচড়ের দাগ।
আমার বাড়ি ভোলা জেলার *** গ্রামে। আমাদের গ্রাম নিয়ে অনেক ভৌতিক ঘটনা আছে। আজ আপনাদের সাথে যে ঘটনাটা শেয়ার করবো তা ঘটেছিলো প্রায় ৪০ বছর আগে। আমাদের গ্রামে তখনো বিজলী বাতি গিয়ে পৌঁছায়নি। ওহ, প্রথমেই বলে নেই, এই ঘটনাটি আমি আমার আব্বু এবং দাদির মুখে শুনেছি। ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার দাদির সাথে। আমার দাদা ছিলেন একজন ওঝা টাইপের লোক। তিনি জিন তারাতে পারতেন। তিনি যখনই জিন তারাতে বাড়ির বাইরে যেতেন তখন বাড়ি শক্ত করে বন্ধক দিয়ে যেতেন এবং সেদিন বাড়ি থেকে বের হওয়া সকলের মানা থাকতো। দাদা একদিন খুব তাড়াহুড়ার সহিত জিন তারাতে রওনা হলেন। সেদিন তিনি বাড়ি বন্ধক দিতে ভুলে যান। তিনি যেই বাসায় জিন তারাতে গিয়েছিলেন সেই বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে তার রাত ৮টার মতো বেজে যায়। তিনি অনেক সাধনা করে একসময় জিনটাকে পরাজিত করেন এবং জিনটা যাকে ভর করেছিলো তার দেহ থেকে জিনটাকে ছাড়িয়ে দেন। জিনটাকে ছাড়িয়ে দিতেই সেটা হুংকার দিয়ে বলে, “আমি গেলাম তোর বাড়িতে!” তো দাদা উত্তর দিলেন, “যা, তুই যা পারিস কর!” কিন্তু সাথে সাথেই দাদার খেয়াল হল যে তিনি আজ তাড়াহুড়ায় বাড়ি বন্ধক দিয়ে বের হতে ভুলে গেছেন। এরই মধ্যে জিনটা দাদার বাড়িতে এসে দাদার রূপ ও কণ্ঠ নিয়ে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে দাদিকে ডাক দিলেন, “জমিনা, বদনাটা নিয়া একটু আসো তো!” দাদি ভাবলেন দাদা হয়তো টয়লেটে যাবেন আর গ্রামের টয়লেটগুলো বাড়ি থেকে একটু দূরে হয়। দাদি পানি নিয়ে বের হয়ে খেয়াল করলেন যে দাদা টয়লেটের দিকে না গিয়ে বাগানের দিকে চলে যাচ্ছেন। দাদি সাথে সাথে বুঝতে পারলেন যে এটা দাদা নয়। তাই তিনি দ্রুত ঘরের দিকে চলে আসতে লাগলেন। হটাত একটা দমকা বাতাসে দাদির হাতের কুপিটা নিভে গেলো। তিনি দৌড় দিলেন ঘরের দিকে। কিন্তু জিনটা একটানে দাদিকে উঠানের পাশ থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দিলো এবং চুবাতে শুরু করলো। তখন বাড়িতে আমার ফুফু এবং ফুফা ছিলেন। দাদি বিপদের মুহূর্তে মত্র একবার বড় ফুফুর নাম ধরে ডাক দিতে পেরেছিলেন। তিনি “আকলিমা” বলে ডাক দেন এবং সৌভাগ্যবশত সেই ডাক আমার ফুফুর কানে পৌঁছায়। আমার ফুফু এবং ফুফা দৌড়ে এসে দেখেন দাদি পুকুরের মাঝে অজ্ঞান অবস্থায় ভাসছেন। এরপর তারা দাদিকে দ্রুত উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যান এবং সেবা চিকিৎসা করে দাদিকে সুস্থ করে তোলা হয়। ঘটনা এখানে শেষ হলে ভালো হতো। কিন্তু এরপর থেকে দাদি প্রায়ই কিছু ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। দাদা তাই আমাদের পুরো বাড়ি শিক দিয়ে দেন এবং সন্ধ্যার পর কারো বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। এরপর দাদা জীবিত থাকাকালীন সময়ে আর কিছু ঘটেনি। দাদা মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশীরা কেউ রাত ২/৩টার দিকে বাড়ির বাইরে বের হলে দেখতে পান যে, সেই পুকুরের পাড়ে আমার দাদার প্রতিরুপি কেউ একজন বসে আছে। হয়তো ঐটাই সেই জিনটা যার প্রতিশোধ নেয়া এখনো শেষ হয় নি। অথবা হয়তো এটা দাদার আত্মা যা আমাদের রক্ষা করার জন্য এখনো আসে। [বিঃদ্রঃ আমি আমার গ্রামের নাম প্রকাশ করতে চাইনা, তাই গ্রামের নামের জায়গায় ******** ব্যাবহার করা হয়েছে!]
"দ্বীপটির নাম Island of the dolls বা পুতুলের দ্বীপ। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিনে জোকি মিলকো জেলায় অবস্থিত এই দ্বীপটি দেখতে কেমন যেন গা শিউরে দেয়ার মতো। এই দ্বীপকে ঘিরে রয়েছে কিছু ভূতুড়ে কাহিনী। আজ থেকে ৮০ বছর আগের কথা তিন মেক্সিকান শিশু পুতুলের বিয়ে দিচ্ছিল গাছে ঢাকা শীতল অন্ধকার এই দ্বীপটিতে। খেলতে খেলতে তাদের একজন নিখোঁজ!পরবর্তী সময়ে দ্বীপের পাশেই একটি খালে পাওয়া গেল তার মৃতদেহ। এরপর থেকে ভয়ে কেউ ঐ দ্বীপের ত্রি-সীমানা মাড়য়নি। এ ঘটনার ৩০ বছর পরের কথা, ১৯৫০ সালের দিকে জুলিয়ান সানতানা নামের এক ধর্ম যাজক নিজর্নে তপস্যা করার জন্য দ্বীপটিকে বেছে নেন। জুলিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী দ্বীপটিতে আশ্রম গড়ে তোলার পর থেকে তার সঙ্গে মৃত শিশুটির আত্মার প্রায়ই কথা হয়! শিশুটির আত্মা তার কাছে পুতুলের বায়না ধরে। তবে যেমন তেমন পুতুল নয়, বীভত্স সব পুতুল চেয়ে বসতো সে। ওই আত্মার অনুরোদে জুলিয়ান তার আশ্রমে চাষ করা সবজির বিনিময় মানুষের কাছ থেক নস্ট পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। এবং সেগুলো এনে গাছের ডালে বেঁধে রাখলেই খুশি হতো শিশুটির আত্মা। এমনিভাবে হাজার হাজার সংগ্রহ করা পুতুল দিয়ে জুলিয়ান গড়ে তোলে মৃত পুতুলের দ্বীপটি। কেউ কেউ বিশ্বাস করে মৃত শিশুটির আত্মা দ্বীপটিতে এখন ও ঘোরাঘুরি করে। মাঝে মাঝে শোনা যায় ভূতুড়ে আওয়াজ। এতসব রহস্যের কারণেই ১৯৯০ সালে মেক্সিকান সরকার দ্বীপটিকে National Heritage ঘোষণা করে। কিন্তু পর্যটকরা কদকার এসোব পুতুল দেখে বোধ হয় রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে চাননা। তাই একেক মৌসুমে ৬০ থেকে ৭০ জনের বেশি পর্যটক কখনো এই দ্বীপে আসেনা। এই দ্বীপের সর্বশেষ রহস্যজনক ঘটনা ঘটে ২০০১ সালে ২১ এপ্রিল। ঐ দিন জুলিয়ান তার বোনের ছেলেকে নিয়ে সেই অপয়া খালে মাছ ধরছিল। সে সময় তিনি তার ভাগ্নেকে বলে, পানির নিচ থেকে আমাকে কারা যেন ডাকছে, তারা আমাকে তাদের সাথে যেতে বলছে। এর কিছুদিন পরে ঐ খাল থেকে উদ্ধার করা জুলিয়ানের নিথর দেহ। "